কেন জাফরান এতটা দামি? Why Is Saffron So Expensive?
জাফরান কিভাবে তৈরি হয় অবাক করা তথ্য | Saffron Making Process | Bangla For You
https://www.bangla4u.com/
/ bangla4ryou
#জাফরান
জাফরান ফুল থেকে সংগ্রীহৃত এক প্রকারের মশলা যা সাধারণভাবে "জাফরান ক্রোকাস" নামে পরিচিত। জাফরান গাছের ফুল ফোটার পর সংগ্রহ শুকানোর মাধ্যমে জাফরন মশলা তৈরি করা হয় যা প্রধানত খাবারের স্বাদ এবং রঙের জন্য ব্যবহার করা।
জাফরান ফুলের পাপড়ি বেগুণী রঙের । এর ভিতরে থাকে লম্বা পরাগ দন্ড। এ দন্ডের রঙ হলুদ এবন কমলা মিশ্রনে জাফরানি বর্ণের হয়।
========
যদিও জাফরনের উৎপত্তিতস্থল সম্পর্কে কিছু দ্বিমত আছে . তারপরেও এটা ধারনা করা হয় যে, জাফরন ইরান থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।
চার হাজার বছর এর বেশি ধরে এর ব্যাবসা ও ব্যবহার চালু রয়েছে । বর্তমানে বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৯০% অংশ ইরান হচ্ছে।
========
এক অজানা কারণে জাফরান ফল তৈরি করতে পারে না। যার ফলে এটা বংশ বিস্তারের জন্য পেঁয়াজের মতো মানুষের সাহয্য প্রয়োজন হয়। ক্রোমগুলি মাত্র এক বছর পর্যন্ত বেচে থাকে এবং এর মধ্যেই এই ক্রোমগুলিকে মাটিতে রোপন করতে হয়।
========
উৎপাদন
১ পাউন্ড বা ৪৫০ গ্রাম শুকনো জাফরানের জন্য ৫০ থেকে ৭৫ হাজার ফুলের দরকার হয়, এক কিলোর জন্য একলক্ষ দশ থেকে একলক্ষ ৭০ হাজার ফুল, ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ফুল তুলতে। অতি সহজেই আমাদের দেশে এই গাছটির চাষাবাদ সম্ভব হলেও এর কোন পরিকল্পনা বা বাণিজ্যিক উৎপাদন নেই। অতি মূল্যবান এই গাছটি আমরা বাড়ির আঙিনায়, ক্ষেত্রের আইলে এবং অল্প জমিতে জন্মিয়ে নিজের জাফরান বা জরদার রঙের প্রয়োজন মেটাতে পারি খুব সহজেই।
স্পেনের ‘লা মাঞ্চা’ অঞ্চলের জাফরানের সুবাস সবচেয়ে ভাল।
===========
বিস্তৃতি
ভারতে ছাড়াও তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপ ও এশিয়ার প্রায় ২০ টি দেশে জাফরান চাষ হয়।
===========
ব্যবহার
যে কোনো খাবারে জাফরান ব্যবহার করলে, সেই খাবারের স্বাদ এবং রং অনেক বেড়ে যায়। কেশর বা জাফরান শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ এবং রং-ই বাড়ায় না। এর আরও অনেক গুণাগুণ রয়েছে।
জাফরানে রয়েছে বিস্ময়কর রোগ নিরাময় ক্ষমতা৷
মাত্র ১ চিমটে জাফরান আপনাকে প্রায় ২০ টি শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
বিরিয়ানীতে রংএর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও দামি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে জাফরান ব্যবহার্য। প্রাচীনকালে জাফরান গায়ে মাখা হতো শরীরের সৌষ্ঠব বাড়ানোর জন্য। ত্বক এর গুণে লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া নানা রোগেও জাফরানের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ করা যায় ।
জাফরানী রং অনুষ্ঠানাদিতে বনেদী পোলাও,বিরিয়ানি,জর্দা,কালিয়াতে ব্যবহার করা হয়। অনেক পানবিলাসী এর পাপড়ি পানের সাথে চর্বণ করেন। জাফরানী রং বিভিন্ন হারবাল ওষুধ প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়। এর রং নান্দনিক সাজসজ্জায় তথা বনেদী পার্লারগুলোতে মেহেদির সাথে সংমিশ্রণে মোহনীয় উজ্জ্বল রং এর উত্কর্ষ বৃদ্ধিতে ব্যবহূত হচ্ছে। জাফরানী সরবত যে কোন অনুষ্ঠানে পরিবেশন যোগ্য।
বিশ্বের সবচাইতে দামি মসলার ফসল জাফরান ।
জানা যায়, প্রাচীন যুগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্ব অনুধাবন করে এর ব্যাপক প্রচলন হয়।
==========
নকল জাফরানঃ
এই ফুলটার বাংলা নামঃ কুসুম
এটি একটি বর্ষজীবি উদ্ভিদ । ১ - ৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
কমলা- হলুদ রংএর ফুলগুলি প্রায় ১ থেকে ১১/২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এটা অনেক সময় জাফরানের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবী বহুদেশে এটাকে জাফরান নামে বিক্রি করে ঠকানো হয়। মসলা হিসাবে এটার কোন মূল্য নাই কিন্তু রং করার ক্ষমতার কারণে অনকে সময় অনেকে ধোকা খায়।