একদিনে সুনামগঞ্জ ভ্রমণ || যাদুকাটা নদী ভ্রমণ || বারেক টিলা ভ্রমন || শিমুল বাগান ভ্রমণ || নীলাদ্রি লেক ভ্রমন
সুনামগঞ্জ :
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বিশাল হাওর সাথে উত্তরে খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড় নিয়ে সিলেট বিভাগের অপরুপ এই জেলা।
যাদুকাটা নদীতে বয়ে চলা স্বচ্ছ পানির ধারা, নীল আকাশ আর সবুজ পাহাড় একসাথে মিলেমিশে অপূর্ব এক ক্যানভাসের সৃষ্টি করেছে। যেখানে প্রকৃতি তার আপন মহিমায় স্বযত্নে সাজিয়ে রেখেছে নদীর প্রতিটি অংশ
বারেক টিলা (Barek Tila) :
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে অবস্থিত বারিক্কা টিলা। টিলার উপর থেকে মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় দেখা যায়। বারিক্কা টিলায় প্রায় ৪০ টি আদিবাসী পরিবার বাস করে।
বারেক টিলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভারতের খাসিয়া পাহাড় থেকে আসা যাদুকাটা নদী। বর্ষায় যাদুকাটা নদী বেয়ে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রচুর বালু ও পাথর আসে। তখন এখানে বালু ও পাথর তোলার কর্মব্যস্ততা বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
বারেক টিলার উপর থেকে যাদুকাটা নদীর দিকে তাকালে যে নৈস্বর্গিক দৃশ্য চোখে পড়ে তার রেশ নাগরিক জীবনের ক্লান্তি নিমিষেই মুছে ফেলার জন্য যথেষ্ট। ক্যাম্পিং করার জন্য বারিক্কা টিলা আদর্শ জায়গা। এখান থেকে সুর্যোদয়ের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
শিমুল বাগান:
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১০০ বিঘা জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এই শিমুল বাগানে আছে প্রায় ৩ হাজার শিমুল গাছ।
২০০৩ সালের দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন এই বাগান শুরু করেন। তাঁর নাম অনুসারেই এই জায়গার নাম জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান।
বসন্তকালে শিমুল বাগানের দিকে তাকালে গাছের ডালে ডালে লেগে থাকা লাল আগুনের ঝলখানি চোখে এসে লাগে। শিমুল ফুলের রক্ত লাল পাপড়িগুলোর এই সৌন্দর্য্য এখানে আসা সমস্ত মানুষের মনকেই রাঙিয়ে দেয়।
নীলাদ্রি লেক বা শহীদ সিরাজ লেক:
সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি মূলত চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে উপজেলা অবস্থিত টেকেরঘাট নামক গ্রামে নীলাদ্রি লেকের অবস্থান।
এই লেকের প্রকৃত নাম সহিদ সিরাজ লেক কিন্তু ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এই লেক নীলাদ্রি লেক নামেই বেশি পরিচিত। অবশ্য স্থানীয় লোকজনের কাছে টেকেরঘাট পাথর কোয়ারি নামে পরিচিত।
লেকের আকর্ষণীয় ঘন নীল জল` ছোট বড় টিলা আর মেঘালয়ের উঁচু পাহাড় সারির সমন্বয়ে নীলাদ্রি লেককে করেছে অপার্থিব সৌন্দর্য্যের অধিকারী।
সুনামগঞ্জ থেকে মোটর সাইকেলে লাউড়ের গড় পর্যন্ত আসতে ভাড়া লাগবে ২০০ টাকা। সেখান থেকে যাদুকাটা নদী পাড় হয়ে থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় বারিক্কা টিলা ,শিমুল বাগান ও নীলাদ্রি লেক টেকেরঘাট যাবার মোটর সাইকেল পাবেন। উল্লেখ্য, মোটরসাইকেল রিজার্ভ কিংবা ভাড়ার ক্ষেত্রে দুইজন ধরা হয়েছে।
এছাড়া শুকনা মৌসুমে কিংবা একদিনে নীলাদ্রী লেক, যাদুকাটা নদী (Jadukata River), শিমুল বাগান, বারেক টিলা দেখতে চাইলে সুনামগঞ্জ শহর থেকে মোটর বাইক রিজার্ভ নিয়ে বারেক টিলা, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান হয়ে নীলাদ্রী লেক ঘুরে আবার সুনামগঞ্জ ফিরে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে সিজনভেদে মোটরবাইক ভাড়া লাগবে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং প্রতিটি বাইকে দুইজন ভ্রমণ করতে পারবেন।
নীলাদ্রি নামটা যেমন সুন্দর, এর রূপও তেমনি মোহনীয়।মুলত চুনাপাথর খননের ফলে লেকটি সৃষ্টি হয়।লেকের ১ প্রান্ত ভারতের মেঘালয়ের উচু উচু পাহারের সারি, আর অন্য প্রান্ত বাংলাদেশে সবুজে ঘেরা উচু নিচু টিলা যাকিনা প্রকিতির ১ স্বর্গিয় রুপ ধারণ করে আছে।
টিলার মাঝে মাঝে রয়েছে বেঞ্চ এবং ছায়ার ব্যবস্থার জন্য বড় বড় ছাতা। টিলার পাশেই চুনাপাথরের বিশাল খনি। প্রচুর লাইমস্টোন রপ্তানি করা হয় এই টেকেরহাট থেকেই।ছবিতোলার জন্য উপজুক্ত একটি যায়গা।
রয়েছে লেকের পানিতে নৌকা ভ্রমন ও কায়াকিংএর ও বাবস্থা।যাকিনা ভ্রমণ পিপাসুদের মনে আনন্দ বহুগুণ বারিয়েদেয়।