১। #প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, n:
বাের পরমাণু মডেল অনুসারে পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট বৃত্তাকারে অরবিট বা শক্তিস্তরে আবর্তন করে। প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা অরবিট বা শক্তিস্তরের আকার প্রকাশ। করে। বিজ্ঞানী বাের শক্তিস্তর সম্পর্কীয় প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) এর ধারণা প্রস্তাব করেন। প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n এর মান 1, 2, 3, 4 প্রভৃতি পূর্ণ সংখ্যা। n-এর মান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে আবর্তনশীল ইলেকট্রনের নিট-শক্তি বাড়ে এবং সে সাথে নিউক্লিয়াস থেকে তার কক্ষপথের দূরতুও বেড়ে যায়। n = 1 হলে ১ম শক্তিস্তর বা K-শেল; n = 2 হলে ২য় শক্তিস্তর বা L-শেল; n = 3 হলে ৩য় শক্তিস্তর বা M-শেল। অনুরূপভাবে ৪র্থ শক্তিস্তর বা N শেল ইত্যাদি হয়। যে কোনাে প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে 2n²। মূলত প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n দ্বারা কোনাে ইলেকট্রনের নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে থাকা অবস্থায় ইলেকট্রনের শক্তি ও নিউক্লিয়াস থেকে দূরত্বকে বােঝায়।
২। #অ্যাজিমুথাল বা #সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা, ɭ:
পরমাণুতে ইলেকট্রন আবর্তনের জন্য প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তর নির্দিষ্ট সংখ্যক উপশক্তিস্তরে বিভক্ত থাকে। একটি ইলেকট্রন প্রধান শক্তিস্তরের যে উপস্তরে রয়েছে তা প্রকাশের জন্য সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা ব্যবহৃত হয়। এটিকে অরবিটাল কোয়ান্টাম সংখ্যা ও সমারফিল্ড) কোয়ান্টাম সংখ্যা বলা হয় । বিজ্ঞানী সমারফিল্ড সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (ɭ) সম্বন্ধে সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা দেন। সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যাকে ɭ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কোনাে ইলেকট্রনের বেলায় ‘ɭ‘ এর মান দ্বারা ইলেকট্রনটির কৌণিক ভরবেগ নির্দিষ্ট করা হয়। ‘ɭ‘ এর মান 0 থেকে (n-1) পর্যন্ত হয়। ɭ এর মান দ্বারা উপশক্তিস্তরের আকৃতি নির্ধারিত হয়। ɭ এর মান 0, 1, 2, 3 হলে উপশক্তিস্তরকে যথাক্রমে s, p, d, f দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এসব উপশক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলােকে s, p, d, f ইলেকট্রন বলা হয়। প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n এবং সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা ɭ এর মানের ওপর নির্ভর করে নিম্নোক্ত উপশক্তিস্তর বা অরবিটাল পরমাণুতে থাকে