এ মুহূর্তে ঢাকাই চলচ্চিত্র যে ‘আয়নাবাজি’র ভেলকিতে মাতোয়ারা সে কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। একের পর এক হাউজফুল শো, টিকেট না পেয়ে হল থেকে হলে ছুটে বেড়ানো- এমনটা কি ক’দিন আগেও কল্পনা করেছে কেউ? ভালো ছবি হলে যে দর্শক হলমুখি হবেই- তাই যেন নতুন করে আবারও প্রমাণ করে দেখালেন অভিতাভ রেজা চৌধুরি ও তার ‘আয়নাবাজি’র দল।
‘লাগ ভেলকি...লাগ ভেলকি...আয়নাবাজির ভেলকি লাগ!’- ট্রেলারে এই গান শুনেই ভেলকি লেগেছিলো দর্শকের মনে। তখন থেকেই মনে মনে সবাই ভাবছিলেন এবার কি তবে সত্যিই একটি ভালো ছবির দেখা মিলবে?
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় সে ভরসা কিন্তু সহজেই মিলছিলো না। টান-টান উত্তেজনায় ভরা ট্রেইলার, ঝকঝকে প্রিন্ট আর গ্ল্যামারাস হিরো-হিরোইন দেখে চটক অনেকবারই লেগেছে চোখে; কিন্তু ছবি শেষে মনে হয়েছে টিকেটের পুরো টাকাটাই নষ্ট।
‘আয়নাবাজি’র ট্রেইলার দেখে খুশি হলেও মনের মাঝে কোথায় যেন লুকিয়ে ছিল সন্দেহের কালো মেঘ। শেষ পযন্ত সত্যিই ভালো কিছু পাওয়া যাবে তো? সন্দেহের সে মেঘ এক ঝটকাতেই উড়িয়ে দিয়েছে সিনেমাটি। ‘আয়নাবাজি’ দেখে আর যাই হোক, পয়সা উসুল হয়েছে ঠিকই- এ মন্তব্য করেছেন সিনেমা হলে উপস্থিত প্রায় প্রতিটি দর্শকই।
‘আয়নাবাজি’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে ছবির প্রধান চরিত্র আয়নাকে ঘিরে। আয়না- যার পুরো নাম শরাফত করিম আয়না (চঞ্চল চৌধুরি), পেশায় একজন সাধারণ অভিনয় শিক্ষক। পাড়ার স্কুলে বাচ্চাদের সে নাটক শেখায়। কিন্তু মাঝে মাঝেই এক-দুই মাসের জন্য উধাও হয়ে যায় সে। কারণ হিসেবে সবাইকে জানায় জাহাজে রান্নার কাজ করে অর্থাৎ সে একজন ‘কুক’।
কিন্তু সাধারণ এক ‘কুক’-এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আয়নার অন্য আরেকটি পরিচয় যেটি কেউ জানে না। ঘটনাচক্রে ক্রাইম রিপোর্টার সাবেরের (পার্থ বড়ুয়া) নজরে পড়ে যায় আয়না। খবরের অনুসন্ধানে আয়নার পিছু নেয় সাবের।
এদিকে পাড়ায় নতুন আসা ভাড়াটিয়া হৃদির (মাসুমা রহমান নাবিলা) সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে আয়নার। একসঙ্গে বাচ্চাদের নাটক শেখাতে গিয়ে একে অন্যের প্রেমে পড়ে যায় তারা। হৃদির প্রতি ভালোবাসার টানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায় আয়না।
এরমধ্যেই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসির আদেশ হয় আয়নার। এখন কে বাঁচাবে আয়নাকে? আয়না কি মরে যাবে নাকি তার ভেলকিবাজির জাদুতে বের হয়ে আসবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে? এমনই এক রহস্যময় ও উত্তেজনায় মোড়া গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘আয়নাবাজি’ ছবিটি। শেষ পযন্ত কি হল আয়নার পরিণতি- তা জানতে হলে দেখতে হবে পুরো ছবিটি।
‘আয়নাবাজি’র প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরি। মঞ্চ ও টিভি নাটক- দু’জায়গাতেই দুর্দান্ত জনপ্রিয় চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আয়নার বিভিন্ন অবস্থার প্রতিটা দৃশ্যেই তার অভিনয় ছিল অসম্ভব নিঁখুত। দেখে একবারো মনে হয়নি তিনি অভিনয় করছেন।
‘আয়নাবাজি’তে চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় মনে করিয়ে দেবে জনি ডেপের ‘চরিত্র-নির্ভর’ সিনেমাগুলোর কথা; যেখানে চরিত্রের গভীরে এতোটাই ডুবে যান তিনি, যে দেখে বোঝার উপায় থাকেনা ডেপ আসলে অভিনয় করছেন!
বাড়তি পাওনা হিসেবে ছিল চঞ্চলের সংলাপ বলার বিশেষ ভঙ্গি ও দর্শক হাসানোর ক্ষমতা। পর্দায় চঞ্চলকে দেখানো মাত্রই দর্শকের হাততালি ও উল্লাস-ধ্বনি যেন সে কথারই সাক্ষ্য দেয়।