মুসলমান ভাইরা দেখুন ভিডিওটি ২০১৯
#বাবরি_মসজিদ #babri_mosque #ভিডিও২০১৯
ভারতের উত্তর প্রদেশের, ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলের উপর অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ ছিল। ধারণা করা হয়, এ বাবরি মসজিদ যে স্থানে অবস্থিত ছিল সেটাই ছিল হিন্দু ধর্মের অবতার রামচন্দ্রের জন্মস্থান। এই বিষয়টি নিয়ে আঠার শতক থেকেই হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্ক চলে আসছে, যা অযোধ্যা বিতর্ক নামে পরিচিত।
মসজিদের অভিলিখন থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে সেনাপতি মীর বাকি (৯৩৫ হিজরি বর্ষে) এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৯২ সালে করসেবক দ্বারা এমসজিদ আক্রমণ করা হয় এবং গুড়িয়ে দেওয়া হয়। যা পুরো দেশজুড়ে এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষ্ফোরণ ঘটায়।
এই মসজিদটি রামকোট ("রামের দুর্গ") হিলের উপর অবস্থিত ছিল। হিন্দুদের মতে, মীর বাকি পূর্বে অবস্থিত রামমন্দির ধ্বংস করে তারপর মসজিদ নির্মাণ করেছে। আদৌ রামমন্দির ছিল কিনা তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ভিন্নমত আছে। ২০০৩ সালে ভারতের ভূমি জরিপ বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা বাবরী মসজিদের নীচে একটি পুরাতন স্থাপনার অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছিল।
১৯ শতকের শুরু থেকে এ বিতর্কের জের ধরে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক কলহের ঘটনা ঘটে এবং পাল্টাপাল্টি আদালতে মামলা দায়ের চলতে থাকে।
১৯৪৯ সালে হিন্দু সক্রিয়তাবাদীরা হিন্দু মহাসভার সাথে জোট বেধে গোপনে রামের একটি বিগ্রহ মসজিদের অভ্যন্তরে রেখে দেয়। এরপরই সরকার দাঙ্গা ঠেকানোর অভিপ্রায়ে পুরো মসজিদকে সিলগালা করে দেয়। হিন্দু মুসলিম উভয়ই সে স্থানে প্রবেশাধিকার পেতে আদালতে মামলা করে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা বাবরী মসজিদ গুড়িয়ে দেয়। যার ফলে পুরো ভারত জুড়েই আন্দোলন ছড়িয়ে পরে। এর জেরে প্রায় ২০০০ মানুষ মারা যায়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম।
২০১০ সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে ভাগ করে দেয়া হোক। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দুই ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ। এর বিরুদ্ধে সব পক্ষই উচ্চ আদালতে আপীল করে।
৯ নভেম্বর ২০১৯ সালে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়কে রদ করে ঘোষণা দেয় ২.৭৭ একরের পুরো জমিই এমন একটি ট্রাস্টকে দিতে হবে, যারা হিন্দু মন্দির নির্মাণ করবে।
মুঘল সম্রাট বাবর এই মসজিদের নির্মাণ কাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯৪০ এর পূর্বে একে "মসজিদের জন্মস্থান" বলা হত ।
দিল্লির সুলতানি এবং তার উত্তরাধিকারী মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকরা শিল্প এবং স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাদের নির্মিত অনেক সমাধি, মসজিদ ও মাদ্রাসা সূক্ষ নির্মাণকৌশলের নিদর্শন বহন করে। মুঘলদের স্থাপত্য তুঘলক রাজবংশের স্থাপত্যের প্রভাব বহন করে যার একটি স্বতন্ত্র গঠনশৈলী আছে। ভারতের সর্বত্র, মসজিদসমূহের ভিন্ন ভিন্ন গঠনশৈলী আছে যা বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছিল। এই নির্মাণগুলির মধ্যে আদিবাসী শিল্প ঐতিহ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের মার্জিত শৈলী ও দক্ষতা উভয়ই প্রকাশ পায়।
মসজিদের নির্মাণে আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক জলবায়ু, ভূখণ্ড, উপকরণ ইত্যাদি প্রভাব ফেলতো যার ফলে বঙ্গ, কাশ্মীর ও গুজরাটের মসজিদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মসজিদগুলি শুধুমাত্র স্থানীয় মন্দির বা গার্হস্থ্য গঠনশৈলীর মধ্যে আবদ্ধ ছিল না।
বাবরি মসজিদ সুলতানি স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। পশ্চিম দিক থেকে দেখলে এই মসজিদ জানপুরের আতালা মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাবরি মসজিদ তার সংরক্ষিত স্থাপত্য ও স্বতন্ত্র গঠনশৈলীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মসজিদটি সম্রাট আকবর দ্বারা গৃহীত ইন্দো-ইসলামী গঠনশৈলীর প্রতীক ছিল।
সম্প্রতি বাবরি মসজিদ মামলা বা অযোধ্যা মামলা নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা চরম পক্ষপাতমূলক। মূলত ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী মোদী সরকারকে খুশি করতে এ রায় প্রদান করেছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। মুসলিম বিশ্ব এ রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
১৫২৮ সালে মোঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি কর্তৃক তৈরি করা হয় বাবরি মসজিদ। ওই স্থানে কথিত ও কল্পিত রাম মন্দির থাকার অজুহাতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্রবাদী হিন্দু কর্তৃক বাবরি মসজিদ শহীদ করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে শত শত মুসলমানের প্রাণ নাশ করা হয়। মুসলিম বিশ্ব সে ক্ষত এখনো ভুলেনি।
বাবরি মসজিদের বিতর্কিত মামলার পক্ষপাতমূলক রায় এমন সময় দেয়া হলো, যখন ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠি হিন্দুদের হাতে চরমভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। গোমাংস ভক্ষণ ও জয়শ্রীরাম না বলায় পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। আমি মনে করি, এ রায়ে হিন্দুদের খুশি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কট্টর হিন্দুদের উগ্রতা আরও বেড়ে যাবে।
প্রত্নতত্ত্ববিদগণের বহুবার অনুসন্ধানের পরও সেখানে কোনো মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরও বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির স্থাপনের অযৌক্তিক রায় দেয়া হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চরম অবনতি হবে। এ মুহূর্তে মুসলিম বিশ্বের বাবরি মসজিদ ইস্যুতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা এবং ভারতীয় মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।
Welcome