তুমি কোন কাননের ফুল || সৌগত কুন্ডু || রবীন্দ্রসঙ্গীত

Опубликовано: 15 Май 2026
на канале: Sougata Kundu
828
21

তুমি কোন কাননের ফুল ...
রবীন্দ্রসঙ্গীত

শিল্পী : সৌগত কুন্ডু
সঙ্গীতায়োজন : অরিজিৎ সেনগুপ্ত
চিত্রায়ণ : শ্রী উত্তম

Tumi kon kanoner phool
Rabindra Sangeet

Artist : Sougata Kundu
Music arrangement : Arijit Sengupta
Videography : Shri Uttam


তুমি কোন্‌ কাননের ফুল, কোন্‌ গগনের তারা।
তোমায় কোথায় দেখেছি যেন কোন্‌ স্বপনের পারা॥
কবে তুমি গেয়েছিলে, আঁখির পানে চেয়েছিলে
ভুলে গিয়েছি।
শুধু মনের মধ্যে জেগে আছে ওই নয়নের তারা॥
তুমি কথা কোয়ো না, তুমি চেয়ে চলে যাও।
এই চাঁদের আলোতে তুমি হেসে গ'লে যাও।
আমি ঘুমের ঘোরে চাঁদের পানে চেয়ে থাকি মধুর প্রাণে,
তোমার আঁখির মতন দুটি তারা ঢালুক কিরণধারা

রচনা পরিচিতি

রচনাকাল: ১২৯৩ (১৮৮৬)
কবির বয়স: ২৫
প্রকাশ: ১২৯৩ , কড়ি ও কোমল-তুমি র-র ২
গানের বহি (বিবিধ)
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): প্রেম-প্রেমবৈচিত্র্য; ৩৬৩/৪১৩
রাগ / তাল: মিশ্র পিলু-বারোয়াঁ / দাদরা
স্বরলিপি: গীতিমালা (১৩০৪); স্বরবিতান ১০
স্বরলিপিকার: জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
তাল আড়খেমটা [ স্বর ১০]। প্রচলিত ও গীতিমালার (১৩০৪) মধ্যে সুরভেদ আছে।

আলোচনা

ভারতবর্ষের যেমন বাধাহীন পরিষ্কার আকাশ, বহুদূরবিস্তৃত সমতলভূমি আছে, এমন য়ুরোপের কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। এইজন্যে আমাদের জাতি যেন বৃহৎ পৃথিবীর সেই অসীম ঔদাস্য আবিষ্কার করতে পেরেছে। এইজন্যে আমাদের পূরবীতে কিংবা টোড়িতে সমস্ত বিশাল জগতের অন্তরের হাহাধ্বনি যেন ব্যক্ত করছে, কারও ঘরের কথা নয়। পৃথিবীর একটা অংশ আছে যেটা কর্মপটু, স্নেহশীল, সীমাবদ্ধ, তার ভাবটা আমাদের মনে তেমন প্রভাব বিস্তার করবার অবসর পায় নি। পৃথিবীর যে ভাবটা নির্জন, বিরল, অসীম, সেই আমাদের উদাসীন করে দিয়েছে। তাই সেতারে যখন ভৈরবীর মিড় টানে, আমাদের ভারতবর্ষীয় হৃদয়ে একটা টান পড়ে।
--পতিসর কাছারি, রবিবার ৬ মাঘ ১২৯৭; ১৮.১.১৮৯১ #১০


আসলে হয়েছে কী, এতক্ষণ কোনো কাজ না থাকাতে নদীর দিকে চেযে গুন্‌ গুন্‌ স্বরে ভৈরবী টোড়ি রামকেলি মিশিয়ে একটা প্রভাতী রাগিণী সৃজন-পূর্বক আপন মনে আলাপ করছিলুম, [কত কথা তারে ছিল বলিতে?] তাতে অকস্মাৎ মনের ভিতরে এমন একটা সুতীব্র অথচ সুমধুর চাঞ্চল্য জেগে উঠল, এমন একটা অনির্বচনীয় ভাবের এবং বাসনার আবেগ উপস্থিত হল, এক মুহূর্তের মধ্যেই আমার এই বাস্তবিক জীবন এবং বাস্তবিক জগৎ আগাগোড়া এমন একটা মূর্তিপরিবর্তন করে দেখা দিলে, অস্তিত্বের সমস্ত দুরূহ সমস্যার এমন একটা সংগীতময় ভাবময় অথচ ভাষাহীন অর্থহীন অনির্দেশ্য উত্তর কানে এসে বাজতে লাগল, এবং সেই সুরের ছিদ্র দিয়ে নদীর উপর জলের তরল পতনশব্দ অবিশ্রাম ধ্বনিত হয়ে এমন একটা পুলক সঞ্চার করতে লাগল--জগতের প্রান্তবর্তী এই সঙ্গীহীন একটিমাত্র প্রাণীকে ঘিরে আষাঢ়ের অশ্রুসজল ঘনঘোর শ্যামল মেঘের মতো 'সুখমিতি বা দুঃখমিতি বা' এমনি স্তরে স্তরে ঘনিয়ে এল, যে একসময়ে বলে উঠতে হল যে, 'থাক আর কাজ নেই। '
--শিলাইদহ, ২৬ জুন, ১৮৯৪;
--রবীন্দ্রনাথ, ছিন্নপত্রাবলী, বিশ্বভারতী, ১৩১৯
তথ্য সূত্র : gitabitan.net