জানি গো, দিন যাবে এ দিন যাবে...
রবীন্দ্রসঙ্গীত
শিল্পী : সৌগত কুন্ডু
সঙ্গীতায়োজন : অরিজিৎ সেনগুপ্ত
চিত্রায়ণ : শ্রী উত্তম
Jani Jani go din jabe..
Rabindrasangeet
Artist : Sougata Kundu
Music arrangement : Arijit Sengupta
Videography : Shri Uttam
রচনা পরিচিতি
রচনাকাল: ২ আশ্বিন ১৩২০ (১৮ সেপ্টেম্বর,১৯১৩)
কবির বয়স: ৫২
রচনাস্থান: লোহিত সাগরে সিটি অফ লাহোর জাহাজে
প্রকাশ: ফাল্গুন ১৩২০ , তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা |
প্রবাসী;গীতিমাল্য ৪০ র-র ১১।
Fruit Gathering 51; Presidencty College Magazine 1929; Modern Review 1929
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-শেষ; ৫৯৪/২৩৩
রাগ / তাল: রামকেলি-কীর্তন / দাদরা
স্বরলিপি: আনন্দসঙ্গীত পত্রিকা (১৩২২); গীতলেখা ৩; স্বরবিতান ৪১
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী; দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
১৩২০ সালের মাঘোৎসবে গীত।
আলোচনা
আজ কোথা থেকে একটা নহবত শোনা যাচ্ছে। সকাল বেলাকার নহবতে মনটা বড়োই ব্যাকুল করে তোলে। আমি এ পর্যন্ত কিছুতেই ঠিক করে উঠতে পারলাম না, সংগীত শুনলে মনের ভিতরে যে অনির্বচনীয় ভাবের উদ্রেক করে তার ঠিক তাৎপর্যটা কী। অথচ প্রত্যেক বারই মন আপনার এই ভাবটাকে বিশ্লেষণ করে দেখতে চেষ্টা করে। আমি দেখেছি গানের সুর ভালো করে বেজে উঠলেই নেশাটি ঠিক ব্রহ্মরন্ধ্রের কাছে ধরে ওঠবা মাত্রই, এই জন্মমৃত্যুর সংসার, এই আনাগোনার দেশ, এই কাজকর্মের আলো-আঁধারের পৃথিবীটি বহু দূরে-- যেন একটি প্রকাণ্ড পদ্মানদীর পরপারে গিয়ে দাঁড়ায়-- সেখান থেকে সমস্তই যেন ছবির মতো বোধ হতে থাকে। আমাদের কাছে আমাদের প্রতিদিনের সংসারটা ঠিক সামঞ্জস্যময় নয়-- তার কোনো তুচ্ছ অংশ হয়তো অপরিমিত বড়ো, ক্ষুধাতৃষ্ণা ঝগড়াঝাঁটি আরাম-ব্যারাম খুঁটিনাটি খিটিমিটি এইগুলিই প্রত্যেক বর্তমান মুহূর্তকে কণ্টকিত করে তুলছে, কিন্তু সংগীত তার নিজের ভিতরকার সুন্দর সামঞ্জস্যের দ্বারা মুহূর্তের মধ্যে যেন কী-এক মোহমন্ত্রে সমস্ত সংসারটিকে এমন একটি পার্স্পেক্টিভের মধ্যে দাঁড় করায় যেখানে ওর ক্ষুদ্র ক্ষণস্থায়ী অসামঞ্জস্যগুলো আর চোখে পড়ে না-- একটা সমগ্র একটা বৃহৎ একটা নিত্য সামঞ্জস্য-দ্বারা সমস্ত পৃথিবী ছবির মতো হয়ে আসে এবং মানুষের জন্মমৃত্যু হাসিকান্না ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমানের পর্যায় একটি কবিতার সকরুণ ছন্দের মতো কানে বাজে। সেইসঙ্গে আমাদেরও নিজ নিজ ব্যক্তিগত প্রবলতা তীব্রতার হ্রাস হয়ে আমরা অনেকটা লঘু হয়ে যাই এবং একটি সংগীতময়ী বিস্তীর্ণতার মধ্যে অতি সহজে আত্মবিসর্জন করে দিই। ক্ষুদ্র এবং কৃত্রিম সমাজ-বন্ধনগুলি সমাজের পক্ষে বিশেষ উপযোগী, অথচ সংগীত এবং উচ্চ অঙ্গের আর্ট মাত্রেই সেইগুলির অকিঞ্চিৎকরতা মুহূর্তের মধ্যে উপলব্ধি করিয়ে দেয়-- সেইজন্যে আর্ট মাত্রেরই ভিতর খানিকটা সমাজনাশকতা আছে-- সেইজন্যে ভালো গান কিংবা কবিতা শুনলে আমাদের মধ্যে একটা চিত্তচাঞ্চল্য জন্মে, সমাজের লৌকিকতার বন্ধন ছেদন করে নিত্য-সৌন্দর্যের স্বাধীনতার জন্যে মনের ভিতরে একটা নিষ্ফল সংগ্রামের সৃষ্টি হতে থাকে-- সৌন্দর্যমাত্রেই আমাদের মনে অনিত্যের সঙ্গে নিত্যের একটা বিরোধ বাধিয়ে দিয়ে অকারণ বেদনার সৃষ্টি করে।
--কলকাতা, ২ মে ১৮৯৫
জানি গো, দিন যাবে এ দিন যাবে।
একদা কোন্ বেলাশেষে মলিন রবি করুণ হেসে
শেষ বিদায়ের চাওয়া আমার মুখের পানে চাবে॥
পথের ধারে বাজবে বেণু, নদীর কূলে চরবে ধেনু,
আঙিনাতে খেলবে শিশু, পাখিরা গান গাবে--
তবুও দিন যাবে এ দিন যাবে॥
তোমার কাছে আমার এ মিনতি
যাবার আগে জানি যেন আমায় ডেকেছিল কেন
আকাশ-পানে নয়ন তুলে শ্যামল বসুমতী।
কেন নিশার নীরবতা শুনিয়েছিল তারার কথা,
পরানে ঢেউ তুলেছিল কেন দিনের জ্যোতি--
তোমার কাছে আমার এই মিনতি॥
সাঙ্গ যবে হবে ধরার পালা
যেন আমার গানের শেষে থামতে পারি শমে এসে--
ছয়টি ঋতুর ফুলে ফলে ভরতে পারি ডালা।
এই জীবনের আলোকেতে পারি তোমায় দেখে যেতে,
পরিয়ে যেতে পারি তোমায় আমার গলার মালা--
সাঙ্গ যবে হবে ধরার পালা॥
#rabindrsangeet #sougatakundu #gaangoppo #bokabaksho #rabindranaththakur #pujaiparjayergaan #songsoftagore #baisesraban #rabiranjani #rabiragini #rabithakurergan
Sougata Kundu : 9434218635