মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে মূলত দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য ও সেবার দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, বিনোদন, যানবাহন সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য-সেবার গড় মূল্য সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকলেই তাকে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলা হয়।
মুদ্রাস্ফীতি হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, অন্য কথায় অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। কারণ একই পরিমাণ অর্থ নিয়ে পূর্বের চেয়ে কম দ্রব্যসামগ্রী কেনা যায়। ফলে অর্থের মূল্যও কমে যায়।
তবে সামান্য মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যেক অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয়। তাহলে উৎপাদকেরা বেশি দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন ও বিক্রয় করতে উৎসাহী হয়। ফলে সার্বিক বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ে, বেকারত্ব হ্রাস পেয়ে যায়।
মুদ্রাস্ফীতির বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull inflation)। এক্ষেত্রে দ্রব্য ও সেবাসামগ্রীর চাহিদা যদি যোগানের তুলনায় অনেক বেশি হয়, তখন ভারসাম্য আনতে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়।
উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেলেও মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation) সৃষ্টি হয়। তখন পণ্য উৎপাদন করতে খরচ বেড়ে যায় ফলে উৎপাদক প্রতি একক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া যখন নোট ছাপানো বা অন্যান্য কারণে অর্থের যোগান বেড়ে যায়, তখন বিক্রেতারাও সেইসাথে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেন। একারণেও মুদ্রাস্ফীতি হয়ে থাকে।
Consumer Price Index (CPI) এর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এতে জানা যায় একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যসমষ্টির (Market basket) জন্য পূর্বের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ কতটুকু বেড়েছে।
সাধারণত সব দেশই ২-৩% মুদ্রাস্ফীতিকে আদর্শ গণ্য করে। অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা ছিল ৫.৫৯ শতাংশ, যা আগস্ট মাসে ছিল ৫.৫৪%।
দ্রব্যের এই ঊর্ধ্বমুখী মূল্য খাদ্য এবং খাদ্য-বহির্ভূত সব ধরণের পণ্যের ক্ষেত্রেই সমভাবে বিরাজমান।
খাদ্য সামগ্রীর মূল্যস্ফীতি এই সময়ে ৫.২১ শতাংশ আর খাদ্য-বহির্ভূত সামগ্রীর ক্ষেত্রে এই হার ৬.১৯ শতাংশ। আবার শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মুদ্রাস্ফীতির হার সামান্য বেশি।
সম্প্রতি মহামারী পরিস্থিতি থেকে কিছুটা সামলে ওঠা এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতির এমন (এবং ক্রমাগত ঊর্ধ্বগামী) হার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সঞ্চয়ের উপর সুদের হার বৃদ্ধি, আয়কর, ভ্যাটসহ বিভিন্ন কর ও রাজস্ব বৃদ্ধি, অর্থের যোগান হ্রাস, মজুরি নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি বিভিন্ন উপায়ে মুদ্রাস্ফীতির উচ্চহারকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরিভাবে বিবেচ্য।