স্টার্টআপ শব্দটি একটি কোম্পানি তৈরির প্রথম ধাপকে বোঝায়। স্টার্টআপগুলি এক বা একাধিক উদ্যোক্তা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় যারা এমন একটি পণ্য বা সেবা বিকাশ করতে চায় যার চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে অনেকগুলো স্টার্টআপ বেশ কিছুদিন ধরে চলছে। একটি স্টার্টআপের সাফল্য নির্ভর করে এটি তৈরির ধারণা, ধারণাটি উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা এবং যথেষ্ট ঝুঁকি গ্রহণের উপর। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ১০টি স্টার্টআপ হল: পাঠাও, বিকাশ, চালডাল, ME SOLshare, Zantrik, Shopup, Gaze Technology, Sheba.xyz, SureCash।
সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ইনডেক্স ২০২১-এ ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৯৭ থেকে ৫ ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থান অধিকার করেছে। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় স্টার্টআপের জন্য বাংলাদেশ ৪ নম্বরে রয়েছে। অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশ কিংবা আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে স্টার্টআপ কম হওয়ার জন্য পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যেমনঃ উচ্চ প্রতিযোগিতা, ধারাবাহিকতার অভাব, পরিকল্পনার অভাব, সুষ্ঠু কর্মী বাছাই, স্কেলিং আপ ও সময় ব্যবস্থাপনা।
" বিশ্বস্ত অপারেটর এবং বিজনেস ইকোসিস্টেম হল দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ যা বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করার সময় বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলো মুখোমুখি হয় " উদ্যোক্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও টিনা জাবীন সংকল্প গ্লোবাল সামিট-2021-এর একটি অধিবেশনে বলেন, "বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই উদ্বিগ্ন যে কে সিস্টেমটি পরিচালনা করছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এটি নির্ভরযোগ্য কি না।" এস্তোনিয়া ভিত্তিক রিভার্স রিসোর্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অ্যান রানেল বলেন, "আমি বাংলাদেশে ভারত বা সিঙ্গাপুরের মতো স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম দেখিনি। বাংলাদেশের একটি ভিন্ন বাজার পরিবেশ রয়েছে যা নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এটিকে পিছিয়ে দেয়।"
সরকারের উচিত ডিজিটাল বাংলাদেশ এজেন্ডা কে সামনে রেখে স্টার্টআপ এবং ইকোসিস্টেম প্লেয়ারদের জন্য একাধিক সুবিধা প্রদানের জন্য একটি স্টার্টআপ নীতি তৈরি করা, যেমন ঋণ অর্থের সহজলভ্যতা, ব্যবসা করার খরচ কমানো, ব্যবসা করার সহজতা, আর্থিক নীতি। সমর্থন - ভ্যাট/ট্যাক্স ছাড় এবং রিবেট। একটি সক্ষম নীতি স্টার্টআপের বৃদ্ধি এবং ইকোসিস্টেমে বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করে বাস্তুতন্ত্রকে উন্নীত করবে, যা দেশের বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের হারকে উপকৃত করবে।