বিশেষ নিবন্ধঃ
শিক্ষায় ও মানব জীবনে ভাষার গুরুত্ব ও ব্যবহারঃ
লেখকঃশ্রাবণসাগর
পৃথিবীতে বসবাসরত প্রায় সহস্র কোটি মানুষের মাঝে ব্যবহারিত ভাষার সংখ্যা কত?বোধকরি সেটা ধারণা করাও অনেক মানুষের সম্ভব নয়,কেননা যেখানে সেই প্রাচীনকাল থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৫/৬ শত জাতির মানুষের বসবাস বা সন্ধান পাওয়া যায় এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই এই ভাষার ব্যবহার ও সংখ্যাও অবশ্যই এর চেয়ে নিতান্তই খুব বেশি বা কম হওয়ার কথা নয়।যদিও প্রচলিত ভাষা বলতে হয়তো ২০/৫০ টি-ই প্রধান, যেমন ইংরেজি যার মধ্যে অন্যতম এবং যাকে মানুষের প্রধান ভাষাও বলা যায় অনায়সে। এছাড়াও চাইনীজ,হিন্দি, রুশ,স্প্যানিশ,পর্তুগিজ,ওলান্দাজ,আরবী,ফার্সি,উর্দু,জাপানিজ,কোরিয়ান,বার্মিজ,মালয়,ইন্দো,আফ্রিকান অনেক ভাষাসহ ভারতীয় উপমহাদেশের একটি বিশাল অংশে ব্যবহ্রত বাংলা ভাষা ইত্যাদির কথা সকল মানুষেরই জানা।মূলতঃএই ভাষার ব্যবহার প্রতিটি মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য, এবং এটা প্রত্যেক মানুষেরই প্রাপ্তি ঘটে প্রথমতঃ তার নিজস্ব মাতৃভাষার থেকে।পরবর্তীতে যদিও অনেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে হয়তো আরও অনেক বা কিছু ভাষা রপ্ত করতে পারে বা করে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সকল মানুষেরই জীবনে মাতৃভাষার প্রভাব থাকে অনেক বেশি। একজন কানাডিয়ান বা কোরিয়ান মানুষ যদি রাশিয়া বা জাপান যায় কিংবা ধরুন বাংলাদেশে আসেন বা বাংলাদেশের কেহ ঐসব দেশে যায়, তাহলে তারা যে যতই শিক্ষিত হোক না কেন, তাদের পক্ষে ঐসকল দেশের মানুষদের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে বিশেষতঃভাষার ব্যবহার মাধ্যমে সমসাময়িক হয়ে উঠতে পারা প্রায় অসম্ভব। যদিও সময়ের ব্যবধানে কিংবা সময় সাপেক্ষে এর কিছুটা পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটে কিন্তু তারপরও প্রত্যেকের জীবনেই মাতৃভাষার প্রভাব থাকে অপরিসীম। এইতো গেল জীবনের কথা কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে বা শিক্ষার বিষয়ে বলতে গেলে এই ভাষার বিষয়টি উপলব্ধি বা পরিলক্ষিত হয় চরমভাবে,যেখানে হয়তো অনেকেরই শিক্ষা গ্রহণ পর্যন্ত ব্যহত হয় কিংবা বঞ্চিত হতে হয় শিক্ষা গ্রহণ থেকে। কারন এক কথায়-সকল ভাষাতে শিক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি বিশেষতঃ উপকরণ যেমন - বই বা এই জাতীয় সামগ্রীসমুহ এক নয়,যেমনটি সচারচর দেখা যায় কিছু কিছু বিষয় যেমন -দর্শন,অর্থনীতি,মেডিকেল-ইন্জিনিয়ারিং বা গনিত-পদার্থবিদ্যা বিষয়গুলো অধ্যায়নের ক্ষেত্রে।এছাড়াও কিছু কিছু বিষয় আছে যেমন -ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস, এয়ারোনোটিকস,ইনফরমেশন টেকনোলজিস ইত্যাদি বিষয় সমূহ অধ্যায়নের ক্ষেত্রেও সচারাচর বই-পুস্তক বা পত্র-পত্রিকার যথেষ্ট অপ্রতুলতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে সকল দেশের বিশেষতঃ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ সমুহের মানুষদের যথেষ্ট ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। হয়তো এই কারনেই পৃথিবীতে এযাবৎকালে নোবেল পুরষ্কার বা এই জাতীয় অনান্য পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রেও ঐসকল দেশের মানুষেরা এতটা পিছিয়ে আছে ও থাকে। তাছাড়াও প্রতিটি দেশেই রয়েছে তাদের নিজস্ব শিক্ষা নীতি ও কারিকুলাম বা ব্যবস্থা, যা মূলতঃ তাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতার কারণেই গঠিত হয়ে থাকে,কিন্তু এক্ষেত্রে বা এই কারনে তো শিক্ষা ব্যবস্থার এহেন দ্বৈত বা ভিন্নমুখী নীতি প্রনয়নের কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে হয় না। কারন শিক্ষা যেহেতু একটি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এই বিষয়টি অবশ্যই সকল দেশের সকল মানুষের জন্যই একীভূত করে সম্পাদিত হওয়ার কথা এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই বিভক্তি বা বিভাজিত হওয়ার কোন সূযোগই নেই অথচ বলতে গেলে সেটাই ঘটছে মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান বা শিক্ষা আরোহনের ক্ষেত্রে,তাদের অধিকার ক্ষুন্ন করে। এমনকি আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ বা অর্জন ক্ষেত্রেও থাকে সীমাহীন ব্যর্থতা, দূর্বলতা বা উদাসীনতা, তাইতো তারা যে কোন একটি দেশের মানুষ ভিন্ন কোন একটি দেশ বা সমাজের সাথে নিজেদেরকে যুক্ত করতে পর্যন্ত পারেনা,মেধা ও মননশীলতায়, গূণ বা আচরণে। যদিও অনেকে হয়তো এক্ষেত্রে মনে করতে পারেন যে,বর্তমান বিশ্বে ভাষার এই এহেন বিভ্রাট ও পার্থক্য আসলে কোন বিশাল কোন সমস্যাই নয়,কেননা ইচ্ছে করলেই তারা বিষয়টিকে ভাষার রূপান্তর বা অনুবাদ করে নিতে পারেন অনায়াসে কিন্তু এই করে কি আসলে কোন স্হায়ী সমাধান সম্ভব হয় বা হতে পারে মোটেই? মনে হয় না, তাই বলে তো আর তাদেরকে অনেক ভাষা রপ্ত করার কথাও বলা যাবে না, তাই অন্ততঃএইটুকু বলা যায় যে,সবাইকে আর কিছু না হোক যে করেই হোক আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণে সচেষ্ট হতে হবে বা জোর দিতে হবে,যার জন্য প্রতিটি দেশের সরকারের যথেষ্ট ভূমিকা থাকতে হবে বলে মনে করছি।