পরাধীনতার স্বাধীনতা
লেখকঃশ্রাবণসাগর
পৃথিবীতে চোখ খুলে মানুষ আকাশ দেখতে পায়,খুঁজে নেয় নিজের আপনজনকে। সময়ের পরিবর্তনে একসময় নিজের অস্তিত্বকে প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষের কাছে ভালোবাসে স্বাধীনতাকে।অথচ তথাকথিত এই স্বাধীনতার কোনো অব
কাশই নেই পৃথিবীতে মানুষের জীবদ্দশায় কিংবা মৃত্যু পরবর্তীতেও পর্যন্ত। কারন মূলতঃ প্রতিটি মানুষই তথা অন্যান্য জীবজন্তুর জীবনকাল সম্পুর্ণরূপেই নিমজ্জিত পরাধীনতার করাল গ্রাসে। সে যেভাবেই হোক না কেন,যেমন-রাজনৈতিক বা সামাজিক,ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক অথবা সাধারণ ও অতি সাধারণ যে কোন প্রয়োজনে,জীবন যাপন ও উন্নয়ন স্বার্থ ইত্যাদি। একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এসবের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পৃথিবীর যে কোন মানুষ বা জীবনই কোন না কোনভাবে ভিন্ন বা অপর কোন একটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কগত হওয়ার কারনে জীবদ্দশায় চিরদিন এই পরাধীনতার গ্লানিকে বয়ে বেড়াতে হয়।
যেমন-ধরা যাক,একজন চাকুরীজীবির কথা কিংবা ধরি,যে কোন একজন পেশাজীবি মানুষ,যেমন -ডাক্তার, কবিরাজ বা উকিল,মোক্তার,ছোট - বড় কোন একজন ব্যবসায়ী, এইসব যে কেহ একজন মানুষ তার নিজস্ব গন্ডির মাঝে সম্পূর্নরূপে পরাধীন থাকে আমৃত্যু পর্যন্ত। যদিও এই পরাধীনতার সীমা অপরিসীম নয়,অর্থাৎ বিষয়টি মূলতঃ দৃষ্টি গোচরীভুত হয় কেবলমাত্র কর্মগত স্বাধীনতাহীনতার জন্য যে, সে বা যে কেহ একজন মানুষ চাইলেই সমাজ বা দেশ ও মানবতা বিবর্জিত কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে না অথবা করতে বা চিন্তা করতে পারে না এমন কোন একটা কাজ করার, যা তার বা তাদের পক্ষে করা বা ভাবনা করাও সম্ভব নয়, হয়ত তার বা তাদের ব্যক্তিগত অবস্থা বা অবস্থানের কারনে। অনেকটা বাক স্বাধীনতার মত একটি বিষয় যে,যে কোন মানুষই চাইলেই বা ইচ্ছা করলেই যে কোথাও যে কাউকে যে কোন একটি কথা বলতে পারে, হোক সে যে কোন মাধ্যমে বা যে কোন বিষয়ে।অথচ এটা কোনভাবেই স্বীকৃত বা গ্রহণযোগ্য নয় কারো কাছেই। এসবের নামই পরাধীনতা,স্বাধীনতার উল্টোপিঠে যার অবস্থান,প্রতি টি মানুষ বা জীবন তথা জীব বা প্রাণীই এর অন্ত্ভুক্ত,এমনকি মৃত্যু পরবর্তীতেও যার ব্যতিক্রম নেই।
যদিও এখানে সেই আলোচনা অর্থাৎ মৃত্যু পরবর্তী স্বাধীনতা বা পরাধীনতার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার মোটেই অবকাশ নেই কারন এই বিষয়ে প্রত্যেক মানুষেরই একটি ব্যক্তিগত বিশেষতঃ ধর্মীয় ধারণা বা বিশ্বাস রয়েছে, যাকে উপেক্ষা করা কারোরই পক্ষে সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। তাই এখানটায় আমরা যে বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি, সেটি হলো শুধুমাত্র মানুষের জীবদ্দশায় তাদের অধিকার বিষয়ক আলোচনা মাত্র। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের মানুষের কথা যদি চিন্তা করা হয়, তাহলে সম্ভবতঃ বর্তমানে একমাত্র আমেরিকা ও মালয়েশিয়াসহ আরোও দু-চারটে দেশ ব্যতীত, বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের মানুষই এখন স্বাধীনতা বিবর্জিত, বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন, তাইওয়ান ও চীন বা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যেকার যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের জনগণ ও সরকারের অন্ত্ঃদ্বন্দ্ব কিংবা জনগণের ক্ষমতার খর্বিত করন ইত্যাদি অমানবিক পরিস্থিতিতে বলা যায় সকল দেশের মানুষের স্বাধীনতা যেন পরাধীনতার অন্তর্জালে আবদ্ধ। মানুষের ভোটের বা কথা বলার অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত, আইনের নামে দুঃশাসন ও নির্যাতন বা শোষণ-উৎপীড়নে জর্জরিত সবাই, এমনিতেই তো পারিবারিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা, তার উপরে মরার উপর খড়ার ঘাঁ-এর মতো করে চাপানো সরকারি শাসন বা অনুশাসনের বোঝা, যেখানে অধিকার বা স্বাধীনতার লেশ মাত্র নেই পৃথিবীতে,সেখানটায় মানুষ কী আশা করতে পারে, তাদের প্রত্যেকের একটি মাত্র জীবনে?