ছোট লেখাঃ
অন্যরকম ভালোবাসা
লেখকঃশ্রাবণসাগর
এ আবার কি রকমের ভালোবাসার কথা বলছি,যার কথা মানুষের জানা নেই।আসলে আদৌও আদতে মানে পৃথিবীতে কি এরকম কোন ভালোবাসা আছে? যার কথা মানুষের অজানা। বাবা -মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা কিংবা সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের,পরিবার -পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা বন্ধু-বান্ধব,যাই বলি না কেন, সব কিছুকে ছাড়িয়ে মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসার কথা আমরা সবাই জানি, তেমন কোন ভালোবাসার সন্ধান পাওয়া বর্তমান অত্যন্ত দুস্কর।একে অপরের প্রতি এই যে মমত্ববোধ, সেটা বোধকরি এখন মানুষের মধ্যে থেকে উধাও হয়ে গেছে। এর পরিবর্তে এখন মানুষেরা ছুটছে মিথ্যা মরিচিকার পেছনটায়,অর্থাৎ তীব্র আকাংখার মাধ্যমে কোন একটি হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াসে।অথচ এক্ষেত্রে মানুষের মাঝে কোন স্বার্থ থাকা তো দুরের কথা, এখানে শুধুমাত্র মহৎ উদ্দেশ্য ছাড়া আর অন্য কোন উদ্দেশ্যেই থাকা বা থাকবার কথা নয়।এখানে প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার কথা বলা হচ্ছে,যেটা এখনটা অনেকটাই শরীরবৃত্তীয় হয়ে গেছে। অবশ্য এখানটায় মানুষেরা তাদের বিশ্বাস যোগ্যতা হারানোর ফলেই এমনটা ঘটেছে বলে মনে হয়।
যাই হোক, এহেন ভালোবাসার গন্ডির মাঝে মানুষের মূল ভালোবাসা কিন্তু কেবলমাত্র নিজেকে নিয়েই গঠিত। একমাত্র নিজকেই তারা ভালোবাসে ও বাসতে পারে আমৃত্যু পর্যন্ত, এছাড়া আসলে অন্য যে কোন কিছুর প্রতিই তার ঐ রকম আকাংখা বা ভালোবাসার প্রদর্শন, বলা যায় অনেকটা অনাহূত ও সময় সাপেক্ষ।এর সবকিছুকেই মানুষের উপেক্ষা করা সম্ভব, কিন্তু এখানটায় আমরা যে অন্য রকমের ভিন্নতর যে কোন একটি প্রকার ভালোবাসার সন্ধান করছি,সেটি কি আদৌ সম্ভব হবে খুঁজে পাওয়া?যেমন ধরুন,ধর্মের প্রতি মানুষের ভালোবাসা,যা পৃথিবীতে শ্বাশত ও চিরন্তন, কম -বেশি সকল মানুষের মাঝেই এটা বিদ্যমান, অন্তত নিজ নিজ ধর্মের প্রতি। এর মধ্যে কোন ভিন্নতা নেই। তাহলে আর কি বা কোন ধরনের ভালোবাসার কথা বলা যায়, যা সম্পূর্নই ব্যতিক্রম ধর্মী।একমাত্র শিক্ষা ও প্রকৃতির প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, সেটিই অনেকটা ভিন্নতর।যদিও শিক্ষার প্রতি মানুষের ভালোবাসার ঘটনা পৃথিবীতে বিরল এবং প্রকৃতি প্রেম মূল্যহীন, সেক্ষেত্রে বলা যায় একমাত্র শিক্ষার প্রতি মানুষের ভালোবাসাই হলো বাস্তবসন্মত ও যুগোপযোগী। একমাত্র শিক্ষাই পারে একজন মানুষকে বাস্তবমুখী করে তৈরী করতে। আর এই শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান কোনোটাই মূল্যহীন নয়।পৃথিবীর মানুষকে তাই শিক্ষামুখী হওয়ার ছাড়া কোন বিকল্প নেই। যেক্ষেত্রে মূল ও ব্যপক ভূমিকা রাখতে পারে শিক্ষাবিদ,বিজ্ঞানী,লেখক,কলামিষ্ট ও সাংবাদিক বা শিল্পী ও অভিনেতা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিগন।ভাবছেন এ কি করে সম্ভব? একজন লেখক বা দার্শনিক কিংবা অভিনেতার এই রকমের ভালোবাসা তৈরীর ক্ষেত্রে কি ভূমিকা থাকতে পারে? ধরুন, রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের কথা,তাদের লেখা কেন মানুষ পড়ত?অবশ্যই এখানে একটি অজানা ভালোবাসা কাজ করছিল, এছাড়াও তাদের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা এবং পাঠকের বা লেখার প্রতি তাদের ভালোবাসা,এসবই ভিন্নতর,অন্যরকমের একটি ভালোবাসার সন্ধান দেয় মানুষকে।যার কারনে প্রখ্যাত সব লেখক,সাহিত্যিক,অভিনেতা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রয়ানে মানুষেরা ব্যথিত হয়।তাহলে বুঝতেই পারছেন, এসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু বা বিষয়বস্তু কিন্তু শিক্ষা,যার উপরে ভিত্তি করেই ঐসকল ব্যক্তিবর্গও হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত,যেখানটিতে আমরা অনায়াসে খুঁজে পাই,আমাদের কাংখিত বা অনাকাংখিত সেই অন্যরকমের একটি ভালোবাসার সুবাতাস,যা সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছি।